মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর ২০২০ ৪ কার্তিক ১৪২৭
শিরোনাম: তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে ৫-৭ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা : মন্ত্রী       ২৮ বছর পরও সেই গোল দোলা দেয় কুমানকে       মেসির প্রচেষ্টা নিয়ে সংশয় নেই কুমানের       বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে ব্যাপকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে: স্পিকার       শ্যুটিংয়ে আঘাত পেলেন আমির খান       সুস্থ হয়ে উঠছেন সৌমিত্র       নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে বিএনপি: কাদের      
বিশ্বকে ক্ষুধামুক্ত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
এনএনবি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২০, ১০:০৩ পিএম আপডেট: ১৬.১০.২০২০ ১০:৪৯ পিএম |

বিশ্বকে ক্ষুধামুক্ত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২০ উপলক্ষ্যে গতকাল শুক্রবার হোটেল সোনারগাঁওয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সেমিনারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি এই কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আসুন এই বিশ্বকে আমরা ক্ষুধামুক্ত করি। আর বাংলাদেশ সম্পর্কে আমাদের একটাই চিন্তা জাতির পিতা চেয়েছিলেন ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। আমরা সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। ইনশাল্লাহ আমরা তা অর্জন করতে পারব।”
বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত সাহসী এবং তারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার মত ক্ষমতা রাখে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমরা এই করোনার সাথে সাথে ঝড়, বন্যাৃসবই মোকাবেলা করে যাচ্ছি। কাজেই এভাবে আমাদের বাঁচতে হবে প্রকৃতির সাথে।
কিন্তু আমরা...খাদ্য নিরাপত্তাটা যাতে নিশ্চিত থাকে, প্রতিটি মানুষের ঘরে যেন খাবার পৌঁছায়...হতদরিদ্র যারা আমরা তাদের মাঝে বিনা পয়সায় খাবার দিয়ে যাচ্ছি এবং এটা অব্যাহত রাখব সব সময়। একটি মানুষও না খেয়ে কষ্ট পাবে না, একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। প্রত্যেকটা মানুষ চিকিৎসা সেবা পাবে, তাদের দোরগোড়ায় আমরা চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিচ্ছি এবং কোনো মানুষ পুষ্টিহীনতায় ভুগবে না।”
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় মানুষকে সহায়তা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যেন খাদ্যের সাথে সাথে পুষ্টির নিশ্চয়তা হয়, মানুষ যেন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”
শেখ হাসিনা বলেন, “একটা ভূ-খন্ডের দিক থেকে বাংলাদেশ আসলে খুবই ছোট, মাত্র ১৪৭ বর্গকিলোমিটার আমাদের ভূমি। কিন্তু আজ আমাদের মানুষের সংখ্যা হচ্ছে প্রায় ১৬৫ মিলিয়ন অর্থাৎ প্রায় ১৭ কোটির কাছাকাছি। এই মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা দেওয়াটা সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর সেদিকে লক্ষ্য রেখে জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি এবং তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।”
তিনি জানান, ১৯৯৬ সালে যখন আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে তখন ৪০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতির দেশ ছিল বাংলাদেশ। এরপর খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়ে ২০০১ সালে যখন আওয়ামী লীগ সরকার পাঁচ বছর পূর্ণ করে তখন ২৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য উদ্বৃত্ত ছিল।
কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে জাতির পিতার নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরার পাশপাশি কৃষকদের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন সরকার প্রধান।
“১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর বাংলাদেশ এগুতে পারেনি। কারণ ১৯৭৫ এ যারা সরকার গঠন করেছিল মিলেটারি ডিক্টেটররা, তাদের একটা লক্ষ্য ছিল যে, বাংলাদেশ পরনির্ভরশীল হয়ে থাক। সেটাই তারা চেয়েছিল। ১৯৯৬ সালে ২১ বছর পর ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়।”
করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, “আমাদের প্রত্যেকটা কাজের লক্ষ্য কৃষকদের সুবিধা দেওয়া। সেদিকে লক্ষ্য রেখে যখনই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছে তখনই আমরা সব থেকে গুরুত্ব দিয়েছি খাদ্য উৎপাদনে। আমরা নিশ্চিত করেছি আমাদের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। খাদ্য নিশ্চয়তা রাখতে হবে। কারণ এই করোনাভাইরাসের কারণে যখন সারাবিশ্ব স্থবির তখন একটা দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশে যেন তার প্রভাব না পড়ে, বাংলাদেশের মানুষ যেন এ ব্যাপারে কোন কষ্টভোগ না করে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছি।”
মহামারীর মধ্যে সরকার যে প্রণোদনা দিচ্ছে, তা জিডিপির চার শতাংশ উল্লেখ করে কৃষকদের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দেওয়ার কথা জানান শেখ হাসিনা।
কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে সরকার সহায়তা করছে জানিয়ে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে সরকার বিশেষভাবে উৎসাহিত করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সেই ক্ষেত্রে আমরা তিন হাজার ২২০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছি এবং খুব অল্প মূল্যে যেন তারা কৃষি যান্ত্রিকীকরণ করতে পারে, বাকি অর্থ সরকারের পক্ষ থেকেই দেয়া হচ্ছে।”
কৃষি সহায়তার জন্য সরকার নয় হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “সেটা আমরা কৃষি সহায়তা হিসেবে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করি, যাতে কৃষক তাদের উৎপাদনে উৎসাহ না হারায়, তারা যেন উৎপাদন করতে পারে।
“সেই সাথে সাথে আমরা মানুষকে উৎসাহিত করছি যে, এক ইঞ্চি জমিও কেউ ফেলে রাখবেন না। গাছ লাগান, ফল লাগান, তরিতরকারি লাগানৃযে যা পারেন কিছু লাগিয়ে নিজের উৎপাদন বাড়ান।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খাদ্যটা হচ্ছে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এই খাদ্য নিশ্চয়তা যদি আমরা দিতে পারি, আমাদের মানুষগুলো আমরা বাঁচাতে পারি, সেই সাথে মানুষও কাজ পায়। প্রত্যেককে উৎসাহিত করিৃসবাইৃযার যেটুকু জমি আছে সবাই যেন কাজ করেন।”
অনুষ্ঠানে ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশনের নেশনের মহাপরিচালক কু ডংইয়ু ভিডিও বার্তায় বক্তব্য দেন।
এই সময় গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল প্রান্তে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মতিয়া চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার উপস্থিত ছিলেন। 








সর্বশেষ সংবাদ
তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে ৫-৭ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা : মন্ত্রী
জামিন হয়নি স¤্র্রাটের, মুক্তির দাবি নিয়ে আদালতে সমর্থকরা
ডিজিটাল না হলে করোনায় বাংলাদেশ পৃথিবী থেকে আলাদা হতো : খালিদ মাহমুদ চৌধুরী
২৮ বছর পরও সেই গোল দোলা দেয় কুমানকে
মেসির প্রচেষ্টা নিয়ে সংশয় নেই কুমানের
ধোনির দলকে হারিয়ে ধোনির উপহার পেলেন বাটলার
ভারতের মানায় পাকিস্তান সফরে নেই জিম্বাবুয়ে কোচ লালচাঁদ রাজপুত
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
রংপুর জেলায় কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিষয়ে আলোচনা
১৫১ পূজা মন্ডপে সিটি কর্পোরেশনের অনুদানের চেক বিতরণ
আওয়ামী সরকারের অধীনে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না
দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ
পদ্মাসেতুর ৩৩ তম স্প্যান স্থাপন
নির্বাচনকে তামাশায় পরিণত করেছে সরকার: ফখরুল
গাবতলীতে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা
সম্পাদক : মোল্লা জালাল | প্রধান সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৪২/১-ক সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।  ফোন +৮৮ ০১৮১৯ ২৯৪৩২৩
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত এনএনবি.কম.বিডি
ই মেইল: [email protected], [email protected]