বুধবার ২ ডিসেম্বর ২০২০ ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
শিরোনাম: খান আতার প্রয়াণ দিবস আজ       অন্তঃসত্ত্বা আনুশকাকে যোগব্যায়াম করাচ্ছেন কোহলি       কুমিল্লার জালে বসুন্ধরা কিংস মেয়েদের ১৫ গোলের উৎসব       ৯তলা থেকে ঝাপ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর!       মহান বিজয়ের মাস শুরু       ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্লানকভিচ করোনায় আক্রান্ত       ট্রাম্পের বিতর্কিত করোনাভাইরাস উপদেষ্টার পদত্যাগ      
শান্তির সংস্কৃতি : জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ
মো. তৌহিদুল ইসলাম
প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০, ৮:৩৩ পিএম |

আজ জাতিসংঘ দিবস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের পর বিশ্বের সব দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং বিশ্বে স্থায়ী শান্তির অন্বেষায় ১৯৪৫ সালে যাত্রা শুরু করে জাতিসংঘ। এ বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪২ সালে জাতিসংঘ (টহরঃবফ ঘধঃরড়হং) নামটি প্রথম ব্যবহার করেন যুক্তরাষ্ট্রের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট। বর্তমানে ১৯৩টি সদস্যদেশের প্রায় ৪১ হাজার নারী-পুরুষ এ আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত। জাতিসংঘ চার্টার অনুসারে, এ সংস্থার মহাসচিব প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন এবং বিশ্বের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পক্ষে সব সময় সোচ্চার থাকেন।
১৯৭৪ সালে ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলায় ভাষণের মধ্য দিয়ে এ সংস্থায় বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়। যদিও সে বছর ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করে। সে সময় বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং সব মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের উপযোগী একটি বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য বাঙালি জাতির প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘শান্তি এবং ন্যায়ের জন্যই জন্মলগ্ন হতে বাংলাদেশ বিশ্বের নিপীড়িত জনতার পাশে দাঁড়িয়েছে। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার সব উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।’ বাংলাদেশ এখনো সেই নীতিই অনুসরণ করছে।
বর্তমান সরকার জাতিসংঘের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্দিষ্ট সময়ের আগে শেষ করেছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা প্রস্তুত করা এবং এ বিষয়ে দরকষাকষিতে (ঘবমড়ঃরধঃরড়হ) বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশ্বে ‘শান্তির সংস্কৃতি’ প্রতিষ্ঠার প্রবক্তা বাংলাদেশ। ১৯৯৯ সাল থেকে বাংলাদেশ এ বিষয়টিকে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন ফোরামে জোরালোভাবে উপস্থাপন করে আসছে। বাংলাদেশ শান্তি, নিরাপত্তা রক্ষা এবং শান্তির সংস্কৃতি বিনির্মাণে নিয়মিত অবদান রেখে চলেছে।
করোনা মহামারি আমাদের সামনে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, পারমাণবিক অস্ত্রে বিনিয়োগ আমাদের স্থায়ী শান্তি এনে দিতে পারে না। বরং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বাস্তবায়ন আমাদের টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা এনে দিতে পারে। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে তার ভাষণে পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকিমুক্ত পৃথিবী গড়ার জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। সে অবধি পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সব সময় তার দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেছে। পরমাণু প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের বিষয়ে উন্নয়নশীল দেশসমূহের কার্যক্রমকে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে। মহামারিকালে অসহিষ্ণুতা, ঘৃণা, বিদ্বেষ ও উগ্র জাতীয়তাবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। শান্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ বিষয়গুলো মোকাবিলা করা সম্ভব।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষী প্রেরণে বাংলাদেশের অবস্থান এখন শীর্ষে। সংঘাতপ্রবণ দেশসমূহে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও শান্তি বজায় রাখতে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
২.
অভিবাসী শ্রমিকদের ন্যায়সংগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সব সময় জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে জোরালো ভূমিকা রাখছে। প্রবাসী শ্রমিকরা স্বাগতিক দেশ ও নিজ দেশের অর্থনীতিতে অবদান রেখে চলেছেন। বর্তমান মহামারি পরিস্থিতিতে অনেক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় অভিবাসী শ্রমিকদের বিষয়টি স্বাগতিক দেশ যেন মানবিক ও ন্যায়সংগতভাবে বিবেচনা করে সে বিষয়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সক্রিয় ভূমিকা আবশ্যক।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের সমস্যাগুলো ক্রমান্বয়ে প্রকট হচ্ছে। করোনা মহামারির মধ্যেও বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ের মতো সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা বৈশ্বিক এবং এ সমস্যার সমাধান বৈশ্বিক উদ্যোগের মাধ্যমেই করতে হবে। এ সমস্যা হতে উত্তরণে একটি টেকসই পরিকল্পনা প্রণয়নে বাংলাদেশ সব সময় নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করে আসছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো আন্তর্জাতিক সংস্থা জাতিসংঘ শান্তি ও জনগণের বৈধ অধিকার প্রতিষ্ঠায় কখনো কখনো ব্যর্থ হয়েছে। দীর্ঘদিনে জাতিসংঘ প্যালেস্টাইনের নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সংগত ও বৈধ অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যাসহ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার পরও ১১ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনসহ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরো সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
মহামারি করোনা ভাইরাসের টিকা এ ভাইরাসের ভয়ংকর থাবা থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে। টিকা আবিষ্কৃত হলে তা বৈশ্বিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে কোনো রকম বৈষম্য ছাড়া বিশ্বের সব মানুষের পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অত্যন্ত সোচ্চার। সব দেশ যেন সময়মতো এবং একই সঙ্গে টিকা পেতে পারে সে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তার ভাষণে তুলে ধরেছেন। করোনা পরবর্তী সময়ে বিশ্বের সব দেশ আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ হবে এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র আরো প্রসারিত হবে। আর্থসামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশ্বে শান্তির সংস্কৃতি এবং একটি মানবিক পৃথিবী প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে—জাতিসংঘ দিবসে এটাই বিশ্বের সব মানুষের প্রত্যাশা।

লেখক : জনসংযোগ কর্মকর্তা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

এনএনবি/ডিকে








আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
খান আতার প্রয়াণ দিবস আজ
অন্তঃসত্ত্বা আনুশকাকে যোগব্যায়াম করাচ্ছেন কোহলি
কুমিল্লার জালে বসুন্ধরা কিংস মেয়েদের ১৫ গোলের উৎসব
৯তলা থেকে ঝাপ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর!
মহান বিজয়ের মাস শুরু
ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্লানকভিচ করোনায় আক্রান্ত
ট্রাম্পের বিতর্কিত করোনাভাইরাস উপদেষ্টার পদত্যাগ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
বাংলাদেশ কালচারাল রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন এর রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠান
এইডস রোগীদের মানসম্পন্ন চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রপতির আহ্বান
বাকাসস চট্টগ্রাম নেতৃবৃন্দের তৃতীয় সপ্তাহের কর্মবিরতি পালন
দুই বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মরণ সভা
দেশ হতে এইডস রোগ নির্মূল করার জন্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী
শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার চট্টগ্রামবাসীর অনন্য উপহার: আইসিটি প্রতিমন্ত্রী
ভাস্কর্যকে মূর্তির সাথে তুলনা বিভ্রান্তি-উস্কানির অপচেষ্টা মাত্র : তথ্যমন্ত্রী
সম্পাদক : মোল্লা জালাল | প্রধান সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৪২/১-ক সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।  ফোন +৮৮ ০১৮১৯ ২৯৪৩২৩
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত এনএনবি.কম.বিডি
ই মেইল: [email protected], [email protected]