রোববার ৭ মার্চ ২০২১ ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭
শিরোনাম: উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় তথ্যমন্ত্রী        তিন নারী নেতার একজন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা       করোনার টিকা নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা       নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিল অস্ট্রেলিয়া       ফিলিস্তিনে ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধ তদন্তে বাধা দেবে যুক্তরাষ্ট্র : কমলা       বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল : আইনমন্ত্রী       ৬৬০টি থানায় একযোগে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপন করবে বাংলাদেশ পুলিশ      
না ফেরার দেশে চলে গেলেন এটিএম শামসুজ্জামান
এনএনবি নিউজ
প্রকাশ: শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১০:২৬ এএম আপডেট: ২০.০২.২০২১ ১১:৩৩ এএম |

না ফেরার দেশে চলে গেলেন দেশের জননন্দিত বরেণ্য অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর সূত্রাপুরের নিজ বাসায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।ভার্সেটাইল অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান শুধু চলচ্চিত্রই নয়, অসংখ্য টিভি নাটকে অভিনয় করে সব শ্রেনীর দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেন। অকস্মাৎ তাকে হারিয়ে মিডিয়া অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাকে শেষ বারের মতো এক নজর দেখার জন্য তার বাড়িতে সাংস্কৃতিক জগতের মানুষের ভিড় চোখে পড়ার মতো। তাদের শোকের মাতম সবাইকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। তার এ চলে যাওয়াটা মেনে নিতে পারছেন না কেউ-ই।   

দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন এটিএম শামসুজ্জামান। রক্তে অক্সিজেন লেভেল কমে যাওয়ায় গত বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুরান ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়েছিলো। কিন্তু হাসপাতালে থাকতে না চাওয়ায় শুক্রবার বিকেলে তাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। এর আগেও একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি। গেলো বছরের ৩০ এপ্রিল তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিলো।
 
প্রথম দিকে, কৌতুক অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেন। অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র পর্দায় তার আগমন ১৯৬৫ সালে। ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন তিনি।

পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন এটিএম শামসুজ্জামান। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক লাভ করেন এই শিল্পী। প্রথম কাহিনী ও চিত্রনাট্য লিখেন ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রের জন্য। এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনী লিখেছেন।
তার পূণাঙ্গ নাম আবু তাহের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান। তিনি এটিএম শামসুজ্জামান হিসেবেই অধিক পরিচিত। তিনি ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার ভোলাকোটের বড় বাড়ি আর ঢাকায় থাকতেন দেবেন্দ্রনাথ দাস লেনে। পড়াশোনা করেছেন ঢাকার পগোজ স্কুল, কলেজিয়েট স্কুল, রাজশাহীর লোকনাথ হাই স্কুলে। পগোজ স্কুলে তার বন্ধু ছিল আরেক অভিনেতা প্রবীর মিত্র। ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন ময়মনসিংহ সিটি কলেজিয়েট হাই স্কুল থেকে। তারপর জগন্নাথ কলেজে (বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়) ভর্তি হন। 

তার বাবা নূরুজ্জামান ছিলেন নামকরা উকিল এবং শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের সঙ্গে রাজনীতি করতেন। মাতা নুরুন্নেসা বেগম। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে শামসুজ্জামান ছিলেন সবার বড়।

এটিএম শামসুজ্জামানের চলচ্চিত্র জীবনের শুরু ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর বিষকন্যা চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে। প্রথম কাহিনী ও চিত্রনাট্য লিখেছেন জলছবি চলচ্চিত্রের জন্য। ছবির পরিচালক ছিলেন নারায়ণ ঘোষ মিতা, এ ছবির মাধ্যমেই অভিনেতা ফারুকের চলচ্চিত্রে অভিষেক। এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনি লিখেছেন। প্রথম দিকে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেন তিনি। অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র পর্দায় আগমন ১৯৬৫ সালের দিকে। ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের নয়নমণি চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনা আসেন তিনি। ১৯৮৭ সালে কাজী হায়াত পরিচালিত দায়ী কে? চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। তিনি রেদওয়ান রনি পরিচালিত চোরাবালিতে অভিনয় করেন ও শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব-চরিত্রে অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

১৯৮৭ সালে কাজী হায়াত পরিচালিত ‘দায়ী কে?’ চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

জলছবি, যাদুর বাঁশি, রামের সুমতি, ম্যাডাম ফুলি, চুড়িওয়ালা, মন বসে না পড়ার টেবিলে চলচ্চিত্রে তাকে কৌতুক চরিত্রে দেখা যায়। তার অভিনয় জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আমজাদ হোসেনের নয়নমণি চলচ্চিত্রটি। এ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। এর আগে নারায়ণ ঘোষ মিতার লাঠিয়াল চলচ্চিত্রে খল চরিত্রে অভিনয় করেন। এ ছাড়া খল চরিত্রে তার কিছু উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো - অশিক্ষিত, গোলাপী এখন ট্রেনে, পদ্মা মেঘনা যমুনা, স্বপ্নের নায়ক।

এ ছাড়া বেশ কিছু চলচ্চিত্রে তিনি পার্শ্ব-চরিত্রে অভিনয় করেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে - অনন্ত প্রেম, দোলনা, অচেনা, মোল্লা বাড়ির বউ, হাজার বছর ধরে, চোরাবালি।

১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর বিষকন্যা চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। এ ছাড়া খান আতাউর রহমান, কাজী জহির, সুভাষ দত্তদের সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। এরপর ২০০৯ সালে প্রথম পরিচালনা করেন শাবনূর-রিয়াজ জুটির এবাদত নামের ছবিটি।

এনএনবি নিউজ/ ডিকে








সর্বশেষ সংবাদ
ভয়ঙ্কর একটি শক্তি’ ভিন্নমতের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে : মির্জা ফখরুল
আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর আহ্বান : এনবিআর চেয়ারম্যান
জেন্ডারজনিত সহিংসতায় সেবা প্রদানে চিকিৎসকদেরকে আন্তরিক হতে হবে
উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় তথ্যমন্ত্রী
ইংল্যান্ডে ১৫ বছর বয়সী ছাত্রের সঙ্গে ৩৫ বছর বয়সী শিক্ষিকার যৌন সম্পর্ক
তিন নারী নেতার একজন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
করোনার টিকা নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
জেন্ডারজনিত সহিংসতায় সেবা প্রদানে চিকিৎসকদেরকে আন্তরিক হতে হবে
ঠাকুর মন্দিরে বার্ষিক মহোৎসব আগামীকাল শুরু
রংপুরে শহিদ শংকু সমজদার দিবস পালিত
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সম্পাদকের সাথে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের সৌজন্য সাক্ষাৎ
চসিক মেয়রের সাথে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ
চট্টগ্রাম নগরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ইউসুফের ইন্তেকাল
এইচ টি ইমাম আর নেই
সম্পাদক : মোল্লা জালাল | প্রধান সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৪২/১-ক সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।  ফোন +৮৮ ০১৮১৯ ২৯৪৩২৩
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত এনএনবি.কম.বিডি
ই মেইল: [email protected], [email protected]