রোববার ৭ মার্চ ২০২১ ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭
শিরোনাম: উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় তথ্যমন্ত্রী        তিন নারী নেতার একজন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা       করোনার টিকা নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা       নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিল অস্ট্রেলিয়া       ফিলিস্তিনে ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধ তদন্তে বাধা দেবে যুক্তরাষ্ট্র : কমলা       বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল : আইনমন্ত্রী       ৬৬০টি থানায় একযোগে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপন করবে বাংলাদেশ পুলিশ      
লাখো মোমবাতি জ্বালিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করলেন নড়াইলবাসী
এনএনবি নিউজ
প্রকাশ: রোববার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ৯:৩৩ পিএম |

এ এক চোখ ধাঁধানো আয়োজন। একটি দুটি নয় এক লাখ মোমবাতি জ্বেলে নড়াইলবাসী স্মরণ করলেন একুশের অমর ভাষা শহীদদের। নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের কুড়িরডোব মাঠ প্রাঙ্গনে ‘অন্ধকার থেকে ম্ক্তু করুক একুশের আলো’এই শ্লোগান নিয়ে প্রতিবছরের মত এবারও আয়োজন করে একুশ উদযাপন পর্ষদ।

এসময় মঞ্চে “আমার ভায়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি”এই গান দিয়ে শুরু হয় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পরিবেশনা গণসঙ্গীত ও কবিতা।

নড়াইলবাসীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে কয়েক হাজার দর্শনার্থী উপভোগ করেন এই মনোহর দৃশ্য। তবে করোনার কারনে এ বছর দর্শনার্থী উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। ভাষা শহীদদের স্মরণে এবারের লাখো মোমবাতি প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠান হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে। এ খবর সংশ্লিষ্ঠ সূত্রের।

একুশ ফেব্রুয়ারিতে নানা অনুষ্ঠানের মধ্যে নড়াইলবাসী অপেক্ষা করেন সন্ধ্যার মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের দৃশ্য দেখার জন্য। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে ভিক্টোরিয়া কলেজের কুরিডোব মাঠ প্রাঙ্গনে আলোকিত হয়ে ওঠে। মোমবাতিগুলো জ্বলে ওঠে। ধীরে ধীরে আকার স্পষ্ট করে দেয় নানা বর্ণমালার, শহীদ মিনার, জাতীয় স্মৃতি সৌধ, জাতীয় সংসদ ভবন, শাপলা ফুল আর বিভিন্ন আল্পনার।

এর মধ্যেই মাঠের পাশে তৈরী করা মঞ্চে শুরু হয় ভাষার গান আর কবিতা আবৃত্তির। প্রায় দুই ঘন্টার এই অনুষ্ঠানের খবর আর এই জেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ছড়িয়ে পড়েছে অনেকদুর।

একুশ ফেব্রুয়ারি বুধবার সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ৬ টা ১০ মিনিটে প্রজ্জলন শুরু হয় মোমবাতি। অন্ধকার ছাপিয়ে বাহারি ডিজাইনের আলোয় আলোকিত হয়ে যায় বিশাল এই মাঠ। এই সাথে ভাষা দিবসের ৬৯তম বার্ষিকী উপলক্ষে নড়াইলের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ১০০টি ফানুষ ওড়ায়। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের দৃশ্য,শহীদ মিনার,জাতীয় স্মৃতি সৌধ, জাতীয় ফুল শাপলা, বাংলা বর্ণমালা, ও প্রজ৭১,যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই, শিখা অনির্বাণ আল্পনা, করোনামুক্ত পৃথিবী, কলুশমুক্ত পৃথিবীসহ বিভিন্ন ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে মোমবাতি প্রজ্জলনের মধ্য দিয়ে। আয়োজকরা আশা করছেন এবার এক লাখ মোমবাতি জ্বালিয়ে দেশের বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্বদের উপস্থিতি আর সংগীতশিল্পীদের অংশগ্রহনে প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য হবে অনুষ্ঠানটি। প্রতিবছরই আয়োজনে শ্লোগান থাকে ’ অন্ধকার থেকে মুক্ত করবে একুশের আলো’।

একুশে উদযাপন পর্ষদের আহব্বায়ক জানান,আমাদের জ্ঞানের যে অন্ধকার, সাম্প্রদায়িকতার যে বিষবাষ্প, সমাজের কপমুন্ডুকতা - সামগ্রিক এসব অন্ধকারের বিরুদ্ধে একুশের আলো। এ আলো শুধু মাঠের আলো নয়। সামগ্রিক অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে জেগে ওঠার প্রত্যয় জাগানিয়া আলো।

নেপথ্যের কথা...

ভাষা শহীদদের স্মরণে নড়াইলে ব্যতিক্রমী আয়োজন শুরু হয় ১৯৯৬ সালে প্রথম কয়েকজন কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ভাবলেন বাঙ্গালীর সবচেয়ে বড় অহংকারের দিন ২১ ফেব্রুয়ারীকে একটু অন্যভাবে পালন করা যায় কি করে। ভাবলেন মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে তো শহীদদের স্মরণের কথা। কিন্তু মোমবাতি জ্বালিয়ে তো দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে অনেক শহীদ মিনারে পালন করা হয়। তাহলে। তারা ভাবলেন এই মোমবাতির পরিমান যদি বেশী হয়।

যে ভাবা সেই কাজ তারা বীরশ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মদ স্মৃতি সংসদের ব্যানারে এক হতে থাকলেন। সেদিনের সাংস্কৃতিক কর্মী আব্দুর রশীদ মন্নু, শরফুল আলম লিটু, শামীমুল ইসলাম টুলু, সৈয়দ ওসমান,লিজা, শান্ত. সংগঠক ওমর ফারুক, মলয় কুন্ড সহ আরো অনেকে। যুক্ত হলেন প্রফেসর মুন্সী হাফিজুর রহমান। তাদের অনুপ্রেরণা যোগালেন তখনকার গনসাহায্য সংস্থার কর্মকর্তা আজকের নাট্য নির্মাতা কচি খন্দকার। তারা সিদ্ধান্ত নিলেন এই আয়োজনের স্থান হবে ভিক্টোরিয়া কলেজ মাঠ। এই মাঠটির অব্স্থানও চমৎকার। মাঠের তিনপাশে রয়েছে উচু রাস্তা। যেখান থেকে নিচে দেখা যায় আলোর প্রজ্জ্বলন। রাস্তাতে প্রচুর মানুষ দাড়িয়ে সেই দৃশ্য অবলোকন করার সুযোগ আছে। মানুষ আসলেন দেখলেন বিমোহিত হলেন।

উৎসাহ পেলেন আয়োজকরা। প্রথমবার শুরু হয়েছিল ২০ হাজার মোমবাতি দিয়ে। কয়েকশ স্বেচ্ছাসেবী নানা আল্পনায় সাজিয়েছিলেন মাঠটিকে। সন্ধ্যার পর মোমবাতির আলো জ্বালিয়ে উদ্বোধন করলেন বাংলার সূর্যসন্তান বীরশ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মদের স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা। মোমবাতি কিনে বেশী দামে বিক্রি করে অর্থ যোগাড় করেছিলেন তারা।

পরেরবার তারা ভাবলেন আয়োজন তো ভালো কিন্তু প্রতিবছর এতো অর্থ পাবেন কোথায়। তো মাটির তৈরী ছোট বাসনে শরিষার তেল দিয়ে সলতে জ্বালালেন। এত আলোর দীর্ঘস্থায়িত্ব একটু বেশী পেলেন। কিন্তু আকর্ষণ যেন একটু কম। তারপর থেকে আবারো মোমবাতিতে ফিরে আসলেন তারা। সেই থেকে প্রতিবছর মোমবাতির পরিমান বাড়তে থাকলো।

এনএনবি নিউজ/ ডিকে








সর্বশেষ সংবাদ
ভয়ঙ্কর একটি শক্তি’ ভিন্নমতের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে : মির্জা ফখরুল
আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর আহ্বান : এনবিআর চেয়ারম্যান
জেন্ডারজনিত সহিংসতায় সেবা প্রদানে চিকিৎসকদেরকে আন্তরিক হতে হবে
উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় তথ্যমন্ত্রী
ইংল্যান্ডে ১৫ বছর বয়সী ছাত্রের সঙ্গে ৩৫ বছর বয়সী শিক্ষিকার যৌন সম্পর্ক
তিন নারী নেতার একজন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
করোনার টিকা নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
জেন্ডারজনিত সহিংসতায় সেবা প্রদানে চিকিৎসকদেরকে আন্তরিক হতে হবে
ঠাকুর মন্দিরে বার্ষিক মহোৎসব আগামীকাল শুরু
রংপুরে শহিদ শংকু সমজদার দিবস পালিত
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সম্পাদকের সাথে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের সৌজন্য সাক্ষাৎ
চসিক মেয়রের সাথে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ
চট্টগ্রাম নগরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ইউসুফের ইন্তেকাল
এইচ টি ইমাম আর নেই
সম্পাদক : মোল্লা জালাল | প্রধান সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৪২/১-ক সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।  ফোন +৮৮ ০১৮১৯ ২৯৪৩২৩
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত এনএনবি.কম.বিডি
ই মেইল: [email protected], [email protected]