বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১ ৫ কার্তিক ১৪২৮
শিরোনাম: কুমিল্লা হবে ‘মেঘনা’, ফরিদপুর ‘পদ্মা’ বিভাগ : প্রধানমন্ত্রী       পাপুয়া নিউগিনিকে হারিয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বে টাইগাররা       মানুষের পাশে অতন্দ্র প্রহরীর মতো রয়েছে সরকার ​: তথ্যমন্ত্রী       একটি শক্তিশালী বিরোধী দল সরকারও চায় : কাদের       কুমিল্লার কাজটি সে তো প্ল্যান মাফিক করেছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী       পূর্বাচলে প্রদর্শনী কেন্দ্রের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী       এস কে সিনহার বিরুদ্ধে মামলার রায় ফের পেছাল      
করোনা পরীক্ষায় অভিনব চাইনিজ পদ্ধতি
চিররঞ্জন সরকার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ, ২০২১, ৩:১২ পিএম আপডেট: ১৬.০৩.২০২১ ৪:০১ পিএম |

চাইনিজদের কাজকারবারই আলাদা। দুনিয়া যেভাবে চলে, তারা সেভাবে চলে না। তাদের সবকিছুই ভিন্ন। তাদের স্বভাব হলো, কথা কম কাজ বেশি। শত্রুকে মোকাবিলা করতে তাদের জুড়ি নেই। কিন্তু এ নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো বাগাড়ম্বর লক্ষ করা যায় না। এক্ষেত্রে তারা রীতিমতো নীরব ঘাতক। নিজেদের স্বার্থ ও সুবিধার জন্য তারা সবকিছুই করে। কিন্তু তার সবই করে নীরবে-নিভৃতে, কোনো আওয়াজ ছাড়া। তারা যেটাকে ভালো মনে করে, সেটা করার ক্ষেত্রে কারো তোয়াক্কা করে না। গোটা দুনিয়া এক দিকে হলেও চাইনিজরা একা আরেক দিকে দাঁড়াতে দ্বিধা করে না। তারা আমেরিকাকে পরোয়া করে না। রাশিয়াকে নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নকেও নয়। আর নীতি-নৈতিকতা-মানবাধিকার তো তাদের কাছে অচেনা-অজানা শব্দ। তারা বোঝে কেবল তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থ। গোটা দুনিয়া যখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে নাকানি-চুবানি খাচ্ছে, চীন তখন নির্বিকার। কারণ তাদের অর্থনীতি তখনো তেজি। আমরা যতই রসিকতা করে বলি ‘মেড ইন চায়না, বেশি দিন যায় না’ প্রকৃত সত্য হচ্ছে জ্ঞান, বিজ্ঞান, শিল্প-প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, অর্থনীতি, কূটনীতি, পর্যটন, সব ক্ষেত্রে চীনারা বীরবিক্রমে এগিয়ে চলেছে। সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন চীন বিশ্ব অর্থনীতিতে ১ নম্বরে চলে আসবে।
অনেকে বলে থাকেন, ওরা সস্তা ও ভঙ্গুর জিনিস তৈরি করে। ওরা সবকিছু নকল করে। তবে যে যা-ই বলুক না কেন, ওদের ‘নকল’ শিল্প ও প্রযুক্তির কারণেই আমাদের মতো নি¤œ ও মধ্য আয়ের দেশের মানুষের হাতে প্রযুক্তি এত তাড়াতাড়ি আসতে পেরেছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্তরা সহজেই অনেক উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছে। শুধু প্রযুক্তিগত দিক দিয়েই নয়, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অনেক জিনিসই আমরা আজ ব্যবহার করতে পারছি শুধু চাইনিজদের জন্য।
চাইনিজরা কিন্তু এক দিনে এই দক্ষতা অর্জন করেনি। অনেক দিনের উদ্যোগ, শ্রম, অধ্যবসায়, পরিকল্পনা, শক্ত নেতৃত্বের কারণেই তারা আজ এই অবস্থানে এসে পৌঁছেছে। অথচ মাও-সে-তুং (ইদানীং অনেকে মাও-জে-দংও বলে থাকেন)-এর আমলেও দুঃখ-কষ্ট-দারিদ্র্য ছিল তাদের নিত্যসঙ্গী। সেই সময় চীন নিয়ে একটি প্রচলিত কৌতুক এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
মাও-সে-তুং টেলিগ্রাম পাঠালেন সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট ক্রুশ্চেভকে : চীনে দুর্ভিক্ষ। দয়া করে খাদ্যদ্রব্য পাঠান।
ক্রুশ্চেভ উত্তর দিলেন : আমাদের নিজেদের অবস্থাও রীতিমতো সংকটজনক। তাই কোনো খাদ্যদ্রব্য পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। পেটে পাথর বাঁধুন ।
মাওয়ের ফিরতি টেলিগ্রাম : তাহলে জরুরি ভিত্তিতে কিছু পাথরই পাঠান!
সেই চীন এখন কয়েক দশকের ব্যবধানে গ্রেট ওয়ালের সঙ্গে সঙ্গে গ্রেট ওয়ালেটেরও মালিক। কোনো সন্দেহ নেই, চীনা পণ্য ক্রমশই আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং গোটা পৃথিবীর মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে চীনের উৎপাদিত পণ্য অনিবার্য হয়ে উঠছে। গ্রিনল্যান্ড থেকে অ্যান্টার্কটিকা, মধ্য এশিয়া থেকে ইউরোপ, সোমালিয়া থেকে আর্মেনিয়া, সর্বত্রই চীনা পণ্যের জয়জয়কার। তা সে মহাকাশে পাঠানো যন্ত্রপাতিই হোক, রোবট কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই হোক, সেলফোন, ল্যাপটপ গাড়ির ইঞ্জিন, সুঁই-সুতা-কাপড় বা যে কোনো জিনিস হোক, একটু উলটে দেখুন পেছনে লেখা রয়েছে ‘মেড ইন চায়না’। আসল আইফোন হোক বা একই রকম দেখতে বরং তার সঙ্গে আরো অতিরিক্ত কিছু বৈশিষ্ট্য জুড়ে দেওয়া আইফোন দুটোই তৈরি হয় চীনে। আমেরিকার ডিজনি স্টোরে যান কিংবা আমাদের কোনো অজ পাড়াগাঁয়ের মুদির দোকানেই যান, দেখতে পাবেন চীনের তৈরি পণ্যে ঠাসা, যা পুরোনো মিথকে ভেঙে দিচ্ছে, এখন আর বলা যাবে না যে চীনের জিনিস মানেই সস্তা, নকল আর ঠুনকো!
যাহোক, সম্প্রতি চীন ব্যতিক্রমী পদ্ধতিতে করোনা পরীক্ষা করে বিশ্বগণমাধ্যমে সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর মতে, মুখ বা নাক নয়, মলদ্বার বা পায়ুপথে সুতা প্রবেশ করিয়ে চীনে বিদেশিদের করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে মলদ্বারের মধ্যে দুই থেকে তিন সেন্টিমিটার সুতা প্রবেশ করিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। চীনের করোনা পরীক্ষার এই অভিনব পদ্ধতিতে প্রবল ক্ষুব্ধ পর্যটকেরা। এভাবে নমুনা সংগ্রহে শারীরিক অস্বস্তি ছাড়াও মারাত্মক ট্রমার সৃষ্টি করছে। সাধারণত করোনাকালে সমস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই করোনা টেস্ট বাধ্যতামূলক। তবে এতদিন তা নাক ও মুখ থেকেই লালারস সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হতো। গত কয়েক মাস ধরে বেইজিং, সাংহাইয়ের মতো চীনের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পায়ুদ্বার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষা করাচ্ছে সেদেশের প্রশাসন। বিদেশি নাগরিকদের জন্য এই পদ্ধতি বাধ্যতামূলক ঘোষণা করা হয়েছে।
চীনের এই পদ্ধতি নিয়ে জাপানসহ বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যেই সরব। টেস্টের নামে অযথা বিদেশি নাগরিকদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জাপান। যদিও সেদেশের চিকিৎসকের মতে, নাক বা গলার তুলনায় পায়ুতে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি আরো বেশিক্ষণ ধরে থাকে। ফলে মলদ্বারের রস থেকে করোনা পরীক্ষায় আরো বেশি নিখুঁত ফলাফল মেলার সম্ভাবনা।
করোনা পরীক্ষার এই নতুন চাইনিজ পদ্ধতি সত্যিই অধিক কার্যকর, নাকি বিদেশিদের জব্দ করতে এই ব্যবস্থা—তা নিয়ে রীতিমতো গবেষণা শুরু হয়েছে। সেই জটিল আলোচনায় না গিয়ে বরং চাইনিজদের নিয়ে কিছু মজার গল্প শেয়ার করা যাক।
চাইনিজদের সামনে জাদু দেখানো নাকি খুব সহজ। এক্ষেত্রে যেটা করতে হবে, জাদু দেখানোর আগে ওদের একটা কৌতুক বলতে হবে, এরপর ওরা হাসি শুরু করবে, আর হাসার সময় তারা চোখে দেখে না। ব্যস এর মধ্যেই জাদুকর্ম/ছলচাতুরী শেষ !
'অষষ সবহ ধৎব ংধসব' কথাটি যিনি প্রথম বলেছিলেন, তিনি ছিলেন একজন চাইনিজ নারী। তিনি নাকি তার স্বামীকে ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে ফেলে এই কথা বলেছিলেন!
চাইনিজদের নিয়ে আরেকটি মজার কৌতুক হলো, আমাদের দেশে বাচ্চাদের নাম রাখা হয় অনেক কিছু ভেবে, বাবা-মার নামের আদ্যাক্ষরের সঙ্গে মিলিয়ে, কিংবা কোনো অর্থবোধক কিছুর নামে। কিন্তু চাইনিজরা নাকি বাচ্চার নাম রাখার আগে হাঁড়ি-পাতিল ওপর থেকে নিচে ফেলে দেয়, এরপর যে, ‘টুং টাং প্যাং পুং’ শব্দ হয় সেটা অনুযায়ী তাদের বাচ্চাদের নাম রাখে!
আপাত নিরীহ ও সহজ-সরল মনে হলেও চাইনিজরা কিন্তু মোটে ছেড়ে দেবার পাত্র নন। তারা অপমানিত হলে এর প্রতিশোধ ঠিকই নেন। এ ব্যাপারে এক চাইনিজ ভদ্রলোকের গল্প স্মরণ করা যেতে পারে।
এক চাইনিজ ভদ্রলোক একবার এক বারে গেলেন।
গিয়ে দেখলেন বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক স্টিফেন স্পিলবার্গ বসে আছেন।
তিনি আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে গেলেন। বললেন, ‘আমি আপনার একজন ভক্ত। আমি কি আপনার একটি অটোগ্রাফ পেতে পারি?’
নেশাগ্রস্ত স্পিলবার্গ তার গালে একটি চড় বসিয়ে দিয়ে বললেন, “আমি তোমাদের ঘৃণা করি। তোমরাই আমাদের ‘পার্ল হারবারে’ বোমা ফাটিয়েছিলে।”
হতভম্ব চাইনিজ কোনোমতে বললেন, ‘সেটা তো চীন নয়, বোমা ফাটিয়েছিল জাপান!’
স্পিলবার্গের জবাব, ‘আমার কাছে চাইনিজ, জাপানি, তাইওয়ানি সব এক।’
সঙ্গে সঙ্গে চাইনিজের এক চড়ে স্পিলবার্গের গোটা শরীর কেঁপে উঠল।
বিস্মিত স্পিলবার্গকে চাইনিজ ভদ্রলোক বললেন, ‘ব্যাটা তুমি টাইটানিক জাহাজকে ডুবিয়েছিলে আর তাতে প্রচুর লোকের প্রাণহানি হয়েছিল।’
স্পিলবার্গ জবাব দিলেন, ‘ওটা তো আইসবার্গের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ডুবেছিল!’
চাইনিজ ভদ্রলোক বললেন, ‘আইসবার্গ, জোহানেসবার্গ, স্পিলবার্গ সব একই কথা!’
একটি পুরোনা কৌতুক দিয়ে আজকের আখ্যান শেষ করি।
ইংল্যান্ডের এক রেস্টুরেন্ট। তিন জন বাবুর্চি সেখানে কাজ করে। একজন চাইনিজ, একজন জাপানিজ আরেকজন বাংলাদেশি। তিন জনের ভেতর খুব রেষারেষি। একদিন কিচেনে একটি মাছি প্রবেশ করেছে। সঙ্গে সঙ্গে চাইনিজ ব্যক্তিটি একটি ছুরি নিয়ে এগিয়ে গেল। কিছুক্ষণ সাঁইসাঁই করে বাতাসে ছুরি চালাল। মাছিটা পড়ে গেল চার টুকরা হয়ে। সে বাকি দুই জনের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘এইভাবে আমরা আমাদের শত্রুদের চার টুকরা করে ফেলি।’
আরেক দিন কিচেনে একটি মাছি ঢুকতেই জাপানিজ ভদ্রলোক এগিয়ে গেল। সাঁইসাঁই করে ছুরি চালাল। মাছি আট টুকরা হয়ে গেল। সে বাকি দুই জনের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘এভাবেই আমরা আমাদের শত্রুদের আট টুকরা করে ফেলি।’
কিছুদিন পর কিচেনে আবারও একটা মাছি প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশি যুবক একটা ছুরি নিয়ে এগিয়ে গেল। বেচারা অনেকক্ষণ ছুরি চালাল। হাঁপিয়ে গিয়ে একসময় চলে এলো। বাকি দুই জন বলল, ‘কি, তোমরা তোমাদের শত্রুদের কিছুই করো না?’
বাংলাদেশি যুবক বলল, ওরে হাবারামের দল, তোমরা কিছুই বোঝো নাই। এমন কাজ করেছি, মাছির এমন জিনিস কেটে দিয়েছি যে, ঐ মাছি আর কোনোদিন বাবা হতে পারবে না!’

লেখক : রম্য রচয়িতা

এনএনবি নিউজ/ ডিকে






আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
কুমিল্লা হবে ‘মেঘনা’, ফরিদপুর ‘পদ্মা’ বিভাগ : প্রধানমন্ত্রী
পাপুয়া নিউগিনিকে হারিয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বে টাইগাররা
মানুষের পাশে অতন্দ্র প্রহরীর মতো রয়েছে সরকার ​: তথ্যমন্ত্রী
একটি শক্তিশালী বিরোধী দল সরকারও চায় : কাদের
শাহরুখ খানের মুম্বাইয়ের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে গোয়েন্দারা
কুমিল্লার কাজটি সে তো প্ল্যান মাফিক করেছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পূর্বাচলে প্রদর্শনী কেন্দ্রের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
তাইওয়ানে আবাসিক ভবনে আগুন, নিহত ৪৬
বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ : প্রধানমন্ত্রী
অবশেষে বলিউডে বাঁধন!
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২২ জেলায় বিজিবি মোতায়েন
কান্দাহারে শিয়া মসজিদে হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭
২৭ দিন চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছেন কাদের সিদ্দিকী
দেশকে বিক্রি করে তো ক্ষমতায় আসব না : প্রধানমন্ত্রী
সম্পাদক : মোল্লা জালাল | নির্বাহী সম্পাদক: দুলাল খান
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৪২/১-ক সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।  ফোন +৮৮ ০১৮১৯ ২৯৪৩২৩
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত এনএনবি.কম.বিডি
ই মেইল: [email protected], [email protected]