সোমবার ২ আগস্ট ২০২১ ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮
শিরোনাম: বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রের পেছনে কারা ছিল সেটা একদিন বের হবে : প্রধানমন্ত্রী       আফগানিস্তানের প্রধান তিন শহর ঘেরাও করল তালেবান       আগস্টের সব অনুষ্ঠানে মাস্ক বাধ্যতামূলক       ১৫ ও ২১ আগস্টের কুশীলবরা এখনো সক্রিয়: ওবায়দুল কাদের       আগস্টের প্রথম প্রহরে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন       সাকিব আল হাসানের অনন্য গড়ার হাতছানি        চলচ্চিত্র নায়িকা একার বিরুদ্ধে দুই মামলা      
ওয়াল্ট ডিজনি ফিরে আসায় রফতানি বাড়বে ১০০ কোটি ডলার
এনএনবি নিউজ
প্রকাশ: সোমবার, ৫ জুলাই, ২০২১, ৩:৫৪ পিএম |

বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্যের জন্য সুসংবাদ। মোটামুটি ভাল খবর দিয়ে শুরু হলো ২০২১-২২ অর্থবছর। দীর্ঘ আট বছর পর বাংলাদেশ থেকে আবারও তৈরি পোশাক কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ব্র্যান্ড ওয়াল্ট ডিজনি। এর ফলে মহামারী করোনাভাইরাসের মধ্যেও ইতিবাচক ধারায় থাকা বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে আরও ১০০ কোটি বা ১ বিলিয়ন ডলার যোগ হবে বলে আশা করছেন পোশাক শিল্পের মালিকরা।

পোশাক শিল্পের মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘আট বছর আগেই ওয়াল্ট ডিজনি বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ৫০ কোটি ডলারের পোশাক নিত। এই দীর্ঘ সময়ে তাদের চাহিদা অনেক বেড়েছে। তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের দেশগুলোতে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি ভালর দিকে। সেসব বাজারে পোশাকের চাহিদা বেড়েছে। সব মিলিয়ে নতুন এই পরিস্থিতিতে ওয়াল্ট ডিজনি আমাদের কাছ থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের পোশাক কিনবে বলে প্রত্যাশা করছি।


 
এ বিষয়টি বাংলাদেশের পোশাক খাতের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল করবে বলেও আশা করেন বিজিএমইএর নেতা। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, এটি বিশ্বের ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল করবে। বিশ্বের অন্য বড় বড় ক্রেতাও এখন পণ্য কিনবে। আমাদের পোশাকের দাম বাড়ানো নিয়ে যে দেনদরবার করছি, সেখানেও আমরা আরও জোর দিতে পারব।’

১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ওয়াল্ট ডিজনির বিক্রয় কেন্দ্র বর্তমানে তিন শতাধিক। প্রতিষ্ঠানটি নারী-পুরুষের পাশাপাশি বাচ্চাদের পোশাক বিক্রি করে। এ ছাড়া বাচ্চাদের খেলনাসহ নানা ধরনের পণ্যসামগ্রী বিক্রির জন্য জনপ্রিয় ডিজনি।

তাজরীন ফ্যাশনসে আগুন এবং রানা প্লাজা ধসের ঘটনার পর ২০১৩ সালে ওয়াল্ট ডিজনি বাংলাদেশ থেকে পোশাক কেনা বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশ থেকে আবারও পোশাক কেনার বিষয়টি ওয়াল্ট ডিজনি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে না বললেও নিশ্চিত করেছেন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান। তিনি বলেছেন, ‘ওয়াল্ট ডিজনির উর্ধতন কর্মকর্তারা আমাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আন্তর্জাতিক শ্রমমান নিরীক্ষা বিবেচনায় নিয়ে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানটি তার অনুমোদিত সোর্সিং দেশের তালিকায় আবার বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।’

তিনি বলেন, ‘ওয়াল্ট ডিজনির ফিরে আসাটা আমাদের পোশাক শিল্পের জন্য সুখবর। কারণ, সম্প্রতি ভারত থেকে প্রচুর পোশাক আমদানি করত তারা। মিয়ানমারের সঙ্গেও ব্যবসা শুরু করেছিল। ফলে আশা করছি, আমাদের উদ্যোক্তারাও ওয়াল্ট ডিজনি থেকে শীঘ্রই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্রয়াদেশ পাবেন।’

২০১২ সালে তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকান্ড এবং ২০১৩ সালে সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মপরিবেশ নিয়ে ক্রেতা দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। বিদেশী অনেক সংগঠন বাংলাদেশী পোশাক বর্জনের ডাক দেয়।

২০১৩ সালে সাভারে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় বাংলাদেশ থেকে পোশাক রফতানি বন্ধ করে দেয় ওয়াল্ট ডিজনি।

তার পরিপ্রেক্ষিতে কারখানা পরিদর্শনে ইউরোপীয় ২২৮টি ক্রেতার সমন্বয়ে গঠিত হয় এ্যাকর্ড অন ফায়ার এ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ, যা সংক্ষেপে এ্যাকর্ড নামে পরিচিতি পায়। আর একই লক্ষ্যে গঠিত আমেরিকার ক্রেতাদের জোট পরিচিতি পায় এ্যালায়েন্স নামে। পাশাপাশি দাতা সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় রিমেডিয়েশন কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল (আরসিসি) গঠন করে সরকার।

এরপর বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ব্যাপকভিত্তিক সংস্কার কাজ শুরু হয়। কারখানার অবকাঠামো উন্নয়ন, আগুন থেকে সৃষ্ট দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা, শ্রমিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে বাস্তবায়ন করা হয় বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা। এর বাইরে বিভিন্ন দাতা সংস্থার উদ্যোগে শ্রমিকদের কর্মদক্ষতার উন্নয়নে প্রশিক্ষণ শুরু হয়।

বিজিএমইএ বলছে, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পরিবেশবান্ধব কারখানার অবস্থান বাংলাদেশেই। বাংলাদেশের ১৪৪টি কারখানা ইউএসজিবিসির লিড গ্রীন সনদ পেয়েছে, যার মধ্যে ৪১টি প্লাটিনাম স্তরের। মহামারীর মধ্যেও রফতানি আয়ের ইতিবাচক ধারা ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। সদ্য শেষ হওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) ৩ হাজার ৫১৮ কোটি (৩৫.১৮ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ। এই আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি।

ফারুক হাসান বলেন, ‘আমরা যতটুকু খবর পেয়েছি, অর্থবছরের শেষ মাস জুনেও রফতানিতে ভাল প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আমরা আশা করছি, অর্থবছর শেষে ১৫ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি হবে। মহামারীর এই কঠিন সময়ে এটা একটা বড় সাফল্য বলে আমি মনে করি। সরকারের প্রণোদনা আমাদের এ ক্ষেত্রে সহায়তা করেছে।’

মহামারী শুরুর আগেও তৈরি পোশাক রফতানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। সে সময় বাংলাদেশের রফতানির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৪০০ কোটি বা ৩৪ বিলিয়ন ডলারের মতো, যা বিশ্বের মোট পোশাক রফতানির ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

এনএনবি নিউজ/ ডিকে








সর্বশেষ সংবাদ
বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রের পেছনে কারা ছিল সেটা একদিন বের হবে : প্রধানমন্ত্রী
আফগানিস্তানের প্রধান তিন শহর ঘেরাও করল তালেবান
আগস্টের সব অনুষ্ঠানে মাস্ক বাধ্যতামূলক
১৫ ও ২১ আগস্টের কুশীলবরা এখনো সক্রিয়: ওবায়দুল কাদের
আগস্টের প্রথম প্রহরে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন
সাকিব আল হাসানের অনন্য গড়ার হাতছানি
চলচ্চিত্র নায়িকা একার বিরুদ্ধে দুই মামলা
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
নিরপরাধ মিনুকে ফাঁসিয়ে দেওয়া সেই কুলসুমী গ্রেফতার
দেশের সব মানুষকে ডিজিটাল নিরাপত্তা দেয়ার জন্যই এ আইন : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
ধূলিঝড়ে ঢাকা পড়ল চীনা শহর!
সজীব ওয়াজেদ জয়ের হাত ধরেই বিশ্বকে নেতৃত্ব দিবে বাংলাদেশ : ওবায়দুল কাদের
ঢাকাই মসলিন হাউজ প্রতিষ্ঠা করবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়
উজিরপুরে মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ...
সম্পাদক : মোল্লা জালাল | প্রধান সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৪২/১-ক সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।  ফোন +৮৮ ০১৮১৯ ২৯৪৩২৩
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত এনএনবি.কম.বিডি
ই মেইল: [email protected], [email protected]