সোমবার ২ আগস্ট ২০২১ ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮
শিরোনাম: বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রের পেছনে কারা ছিল সেটা একদিন বের হবে : প্রধানমন্ত্রী       আফগানিস্তানের প্রধান তিন শহর ঘেরাও করল তালেবান       আগস্টের সব অনুষ্ঠানে মাস্ক বাধ্যতামূলক       ১৫ ও ২১ আগস্টের কুশীলবরা এখনো সক্রিয়: ওবায়দুল কাদের       আগস্টের প্রথম প্রহরে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন       সাকিব আল হাসানের অনন্য গড়ার হাতছানি        চলচ্চিত্র নায়িকা একার বিরুদ্ধে দুই মামলা      
করোনার মধ্যেও গত অর্থবছরের চেয়ে ৩০০ কোটি ডলার বেশি রফতানি হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী
এনএনবি নিউজ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ জুলাই, ২০২১, ৬:৪৯ পিএম |

চলতি অর্থবছরে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। এই লক্ষ্যমাত্রা সদ্য বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরের চেয়ে ৩০০ কোটি ডলার বেশি। মহামারি করোনাভাইরাসের আঘাত মোকাবেলা করেই রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। সচিবালয়ে ই-কমার্স সংক্রান্ত আরেকটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ই-কমার্সের নামে এমএলএম (মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানি) ব্যবসা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি রফতানি খাতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে রফতানি আয়ের এই লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন। ওই সময় তিনি বলেন, মোট লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে পণ্য খাতের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার, আর সেবা রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ৭৫০ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ নাম দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগুলোতে বিশেষ নীতি সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। রফতানি বাড়াতে প্রণোদনা প্যাকেজেও বিশেষ কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছে সরকারী বেসরকারীখাতে। এছাড়া পণ্যের বৈচিত্রকরণে ও সরকারী বিভিন্ন উদ্যোগ বিবেচনায় নিয়ে এই লক্ষ্যমাত্র ঠিক করা হয়েছে। ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ঘোষিত ৫ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রাকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বিকেএমইএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম, বিজিএমই এর সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. সিদ্দিকুর রহমান, লেদার এ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যান্যুফেকচারার্স এ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মো. সাইফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ টানার্স এ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শাহীন আহমেদ। অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ এবং রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান বক্তব্য রাখেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, করোনা মহামারি চলমান থাকলেও রফতানিমুখী খাতগুলো যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে, তাতে এই লক্ষ্যমাত্রা খুবই বাস্তবসম্মত এবং অর্জন করার মতো। কারণ, চলতি অর্থবছরের বাজেটে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নাম দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পে বিশেষ নীতি সহায়তা দেয়ার ঘোষণা আছে। এছাড়া রফতানি পণ্যের বৈচিত্র্যকরণে সরকার উদ্যোগী হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে পণ্য রফতানির লক্ষ্য ছিল ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং সেবা খাতের রপ্তানির লক্ষ্য ছিল ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্জিত হয়েছে পণ্যখাতে ৩৮ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং সেবা খাতে ৬ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। লক্ষ্যমাত্রার ৯৪ দশমিক ৫৬ ভাগ অর্জিত হয়েছে।

ইপিবি সোমবার পরিসংখ্যান প্রকাশ করে জানিয়েছে, সদ্য বিদায়ী ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ৩ হাজার ৮৭৫ কোটি ৮৩ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ। যদিও তা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সাড়ে ৫ শতাংশ কম। তবে আগের ২০১৯-২০ অর্থবছরের রফতানি আয়ের চেয়ে ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩ হাজার ৩৬৭ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছিল। টিপু মুনশি বলেন, করোনার এই সময়ে এ সময় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে। চলমান মহামারির মধ্যেও রফতানিমুখী খাতগুলো যেভাবে সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করার মতো। রফতানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব করোনা পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশের রফতানি খাত সচল রয়েছে এবং রফতানি খাত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগে রফতানি খাতের প্রণোদনা দেয়াসহ প্রয়োজনীয় সবধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান ব্যবসা বান্ধব সরকার দেশের রফতানি বাড়ানোর জন্য আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। সরকার বেশকিছু সেক্টরকে পণ্য রফতানিতে দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য প্রকল্প হাতে নিয়েছে। দেশের তৈরি পোশাকের পাশাপাশি লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, আইসিটি, লেদার ও লেদারগুডস, প্লাস্টিক এবং কৃষিজাত পণ্য রফতানির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এ খাতগুলোকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার জন্য বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। আশা করা যায়, এ খাতগুলোর রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। দেশের রফতানি বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পিটিএ বা এফটিএ এর মতো বাণিজ্য চুক্তি করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ই-কমার্সের আওতায় এমএলএম ব্যবসা করা যাবে না ॥ সচিবালয়ে “ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা-২০২১” জারির বিষয়ে অবহিতকরন সংক্রান্ত এক সভায় অংশগ্রহণ করে বাণিজ্যমন্ত্রী হুশিয়ারি উচ্চারণ কওে বলেছেন ই-কমার্স এবং ডিজিটাল ব্যবসার আওতায় দেশের কেউ এমএলএম ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে না । টিপু মুনশি বলেন, ডিজিটাল ব্যবসায় শুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য “ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১” প্রনয়ন করা হয়েছে। গত ৪ জুলাই তা সরকারের গেজেট আকারে প্রকাশত হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারী ও বেসরকারী সংস্থা ও অংশিজনদের মতামতের ভিত্তিতে এ ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা তৈরী করা হয়েছে। এতে মার্কেটপ্লেসে বিক্রয়যোগ্য পণ্য ও সেবার তথ্য প্রদর্শন ও ক্রয়-বিক্রয়, সাধারণ নিয়মাবলী, মার্কেট প্লেসে পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের জন্য উপস্থাপন, পণ্য ডেলিভারী, অগ্রিম পরিশোধিত মূল্য সমন্বয় ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। যা গ্রাহকদের জন্য সহায়ক হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল কমার্সের আওতায় নেশা সামগ্রী, বিস্ফোরক দ্রব্য বা অন্য কোন নিষিদ্ধ সামগ্রী বা সেবা কেনাবেচা করা যাবে না। জুয়া বা অনলাইন বিটিং বা অনলাইন গেমবলিং এর আয়োজন বা অংশগ্রহণ করা যাবে না। ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্টানসমূহ সরকারের পূর্বানুমোদন ব্যতিত কোন ধরণের লটারি’র আয়োজন করতে পারবে না। মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) বা নেটওয়ার্ক ব্যবসায় পরিচালনা করা যাবে না।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, পণ্য বিক্রেতা বা তার সাথে চুক্তিবদ্ধ ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে না থাকলে “ষ্টকে নেই” কথাটি স্পষ্টভাবে পণ্যের পাশে লিপিবদ্ধ করেতে হবে। নিত্যপণ্য ও খাদ্য সামগ্রীর বা সংখ্যায় প্রকাশ করা যায় না এমন পণ্য বা সেবার ক্ষেত্রে স্টকের পরিমানের পরিবর্তে “এভেইলেবল ফর ডেলিভারি” কাথাটি লেখা থাকতে হবে। অগ্রিম মূল্য আদায়ের ক্ষেত্রে প্রদর্শিত পণ্য অবশ্যই দেশের ভিতরে 'রেডি টু শিপ' পর্যায়ে থাকতে হবে। সম্পূর্ণ মূল্য গ্রহণের পরবর্তি ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ডেলিভারী পারসন বা প্রতিষ্ঠাণের নিকট হস্তান্তর করার মত অবস্থায় নেই এমন পণ্যের ক্ষেত্রে পণ্যমূল্যের ১০ শতাংশ এর বেশি অগ্রিম গ্রহণ করা যাবে না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত এসক্রো সার্ভিস এর মাধ্যমে ১০০ ভাগ পর্যন্ত অগ্রিম গ্রহণ করা যাবে। বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শিত পণ্যের সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধের পরবর্তি ৪৮ ঘন্টার মধ্যে পণ্য ডেলিভারীম্যান বা ডেলিভারী সংস্থার নিকট হস্তান্তর করতে হবে এবং ক্রেতাকে তা টেলিফোন, ই-মেইল বা এসএমএস এর মাধ্যমে জানাতে হবে।

টিপু মুনশি বলেন, পণ্যের সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করা হয়ে থাকলে ক্রেতা ও বিক্রেতা একই শহরে অবস্থান করলে ক্রয়াদেশ গ্রহণের পরবর্তি সর্বোচ্চ পাঁচ দিন এবং ভিন্ন শহরে বা গ্রামে অবস্থিত হলে সর্বোচ্চ দশ দিনের মধ্যে পণ্য ডেলিভারী প্রদান করতে হবে। পচনশীল দ্রব্য দ্রুততম সময়ে ডেলিভারি দেয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ডেলিভারির সময় যাতে পণ্যের কোন ক্ষতি না হয় সেজন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যে কোন ধরনের ঘোষিত ডিসকাউন্ট বিক্রয় কাযক্রম এর সাথে সাথে কার্যকর করতে হবে। ক্যাশব্যাক অফার মূল্য পরিশোধের পরবর্তি ৭২ ঘন্টার মধ্যে কার্যকর হতে হবে।

এনএনবি নিউজ/ ডিকে








সর্বশেষ সংবাদ
বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রের পেছনে কারা ছিল সেটা একদিন বের হবে : প্রধানমন্ত্রী
আফগানিস্তানের প্রধান তিন শহর ঘেরাও করল তালেবান
আগস্টের সব অনুষ্ঠানে মাস্ক বাধ্যতামূলক
১৫ ও ২১ আগস্টের কুশীলবরা এখনো সক্রিয়: ওবায়দুল কাদের
আগস্টের প্রথম প্রহরে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন
সাকিব আল হাসানের অনন্য গড়ার হাতছানি
চলচ্চিত্র নায়িকা একার বিরুদ্ধে দুই মামলা
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
নিরপরাধ মিনুকে ফাঁসিয়ে দেওয়া সেই কুলসুমী গ্রেফতার
দেশের সব মানুষকে ডিজিটাল নিরাপত্তা দেয়ার জন্যই এ আইন : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
ধূলিঝড়ে ঢাকা পড়ল চীনা শহর!
সজীব ওয়াজেদ জয়ের হাত ধরেই বিশ্বকে নেতৃত্ব দিবে বাংলাদেশ : ওবায়দুল কাদের
ঢাকাই মসলিন হাউজ প্রতিষ্ঠা করবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়
উজিরপুরে মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ...
সম্পাদক : মোল্লা জালাল | প্রধান সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৪২/১-ক সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।  ফোন +৮৮ ০১৮১৯ ২৯৪৩২৩
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত এনএনবি.কম.বিডি
ই মেইল: [email protected], [email protected]