শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২ আশ্বিন ১৪২৮
শিরোনাম: ১৮ বছরের উর্ধে সকল বাংলাদেশী নাগরিককে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা : প্রধানমন্ত্রী       খুব শিগগিরই উদ্বোধন পায়রা সেতু‌ : সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের       অনিবন্ধিত সব অনলাইন সাত দিনের মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া সমীচীন হবে না : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী       সামাজিক আন্দোলনে ওলামায়ে কেরামের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ : মেয়র আতিক       ইরানি সেনা কর্মকর্তার হুঁশিয়ারি       শিক্ষক হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদন্ড        আ.লীগ নেতা চিত্ত রঞ্জন সাময়িক বহিস্কার      
নিরপরাধ মিনুকে ফাঁসিয়ে দেওয়া সেই কুলসুমী গ্রেফতার
এনএনবি নিউজ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই, ২০২১, ৩:১৬ পিএম |

কুলসুম আক্তার কুলসুমীর বদলে হত্যা মামলায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ২ বছর ৯ মাস ১০ দিন বন্দি ছিলেন মিনু। সড়ক দর্ঘটনায় মিনুর চিরতরে মুক্তি মিলেছে। অধরা মূল আসামি সেই কুলসুমীকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) ভোরে নগরের পতেঙ্গা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কুলসুমী লোহাগাড়া উপজেলার গৌরস্থান মাঝের পাড়া আহাম্মদ মিয়ার বাড়ির আনু মিয়ার মেয়ে। তার বর্তমান ঠিকানা কোতোয়ালি থানাধীন রহমতগঞ্জ সাঈদ ডাক্তারের ভাড়া বাড়ি।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন বলেন, কুলসুম আক্তার কুলসুমীকে ভোরে পতেঙ্গা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

হত্যা মামলায় আদালত যাবজ্জীবনসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১ বছরের কারাদণ্ড দেন কুলসুম আক্তার কুলসুমীকে। তার পরিবর্তে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জেল খাটেন মিনু। বিষয়টি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান আদালতের নজরে আনেন। এরপর গত ২২ মার্চ অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঁঞার আদালতে মিনুকে হাজির করা হলে তার জামিন হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নগরের রহমতগঞ্জে একটি বাসায় ২০০৬ সালের জুলাই মাসে মোবাইলে কথা বলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গার্মেন্ট কর্মী পারভিনকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। এরপর রহমতগঞ্জে একটি গাছের সাঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পারভিন আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করেন গার্মেন্ট কর্মী কুলসুম আক্তার কুলসুমী। পরে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। পুলিশ দুই বছর তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবেদন জমা দেয়।

ওই ঘটনায় হওয়া মামলায় ২০০৭ সালের ২৬ অক্টোবর চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার উপজেলার গৌরস্থান মাঝেরপাড়া গ্রামের আনু মিয়ার মেয়ে কুলসুমীকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর স্বামীর নাম ছালেহ আহমদ। তিনি স্বামীর সঙ্গে কোতোয়ালি থানার রহমতগঞ্জে সাঈদ ডাক্তারের বাড়িতে ভাড়া থাকেন।

২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পান কুলসুমী। পরবর্তীতে এ মামলায় বিচার শেষে ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত এক রায়ে কুলসুমীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ড দেন। রায়ের দিন কুলসুমী আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাঁকে পলাতক দেখিয়ে রায় ঘোষণা করা হয়।

এর পর ভাসমান বস্তিতে মিনুকে পান কুলসুমী। মিনুর স্বামী ঠেলাগাড়ি চালক বাবুল সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর তিন সন্তান নিয়ে চট্টগ্রামে ভাসমান বস্তিতে থাকতেন। মিনুর বাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর জাফারাবাদ এলাকায়। তাঁর পিতার নাম সোলাইমান ও মা সালেহ বেগম, স্বামী মোহাম্মদ বাবুল। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার ময়নামতিতে।

মিনুর দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে ইয়াছিন (১২)। সে একটি দোকানের কর্মচারী। আরেকজন গোলাম হোসেন (৭) হেফজখানায় পড়ছে। ছোট মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসকে (৫) দত্তক দেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মিনু ও তাঁর সন্তানদের ভরণপোষণ দেওয়ার প্রস্তাব দেন কুলসুমী। বিনিময়ে একদিন আদালতে হাজির হতে হবে বলে জানানো হয় মিনুকে। আদালতে হাজির হলে তাঁর জামিনও করিয়ে আনবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

মিনু কুলসুমীর কথায় রাজি হয়ে কুলসুমী সেজে ২০১৮ সালের ১২ জুন চট্টগ্রাম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। সেই থেকে মিনু কারাবন্দি। এরপর নিম্ন আদালতের সাজার বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে হাইকোর্টে আপিল করেন কুলসুমী। একারণে ওই বছরের ১২ জুন মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ওই মামলাটি হাইকোর্টে বিচারাধীন।

জানা যায়, মিনু কারাগারে যাওয়ার পর প্রথম প্রথম কয়েকমাস মিনুর সন্তানদের ভরণপোষণ দিলেও কয়েক মাস যেতে না যেতেই মিনুর পরিবারের খোঁজ নেওয়া বন্ধ করে দেন কুলসুমী। ওদিকে মিনুর দীর্ঘ হতে থাকে কারা জীবন। মিনুর আর খোঁজ নেননি কুলসুমী।

এ অবস্থায় মিনু পুরো ঘটনা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে ফাঁস করে দেন। প্রথম প্রথম কেউ তাঁর কথা না শুনলেও গত ১৮ মার্চ কুলসুমীর পরিবর্তে মিনুর কারাভোগের বিষয়টি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খানের নজরে আসে। এরপর তিনি বিষয়টি নিজে অনুসন্ধান করেন। চট্টগ্রাম কারাগারে থাকা নথিতে কুলসুমীর ছবির সঙ্গে মিনুর ছবির মিল খুঁজে পায় না কারা কর্তৃপক্ষ।

এনএনবি নিউজ/ ডিকে








সর্বশেষ সংবাদ
১৮ বছরের উর্ধে সকল বাংলাদেশী নাগরিককে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা : প্রধানমন্ত্রী
খুব শিগগিরই উদ্বোধন পায়রা সেতু‌ : সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের
অনিবন্ধিত সব অনলাইন সাত দিনের মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া সমীচীন হবে না : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
সামাজিক আন্দোলনে ওলামায়ে কেরামের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ : মেয়র আতিক
ইরানি সেনা কর্মকর্তার হুঁশিয়ারি
শিক্ষক হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদন্ড
আ.লীগ নেতা চিত্ত রঞ্জন সাময়িক বহিস্কার
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
দুই সংগীতশিল্পীর বিয়ে
আসলে তো আমি লিখেছি ‘ফাক মি মোর’: পরীমনি
পর্তুগালের বাংলাদেশি শাহ আলম
১৬ হাসপাতালের ২৮ যন্ত্র বাক্সবন্দি
৫ বিদ্যুতকেন্দ্র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ইতিহাস গড়লেন কিশোরী এমা
ইরাক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা
সম্পাদক : মোল্লা জালাল | নির্বাহী সম্পাদক: দুলাল খান
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৪২/১-ক সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।  ফোন +৮৮ ০১৮১৯ ২৯৪৩২৩
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত এনএনবি.কম.বিডি
ই মেইল: [email protected], [email protected]